বোনের অর্থ আত্মসাৎ ও হত্যার হুমকিতে ভাইয়ের বিরুদ্ধে অসহায় বোনের সংবাদ সম্মেলন!!

বিশেষ প্রতিনিধিঃ আপন ভাইয়ের অর্থ আত্মসাতে মানবেতর জীবন যাপন করছে নোয়াখালীর এক ভুক্তভোগী অসহায় নারী। সালমা আক্তার কাজল নামের ভুক্তভোগী নারী গত ১১/০৬/২০২০ তারিখে নোয়াখালীর স্থানীয় মিড়িয়া হাউজে আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত পেতে সংবাদ সম্মেলনে আপন ভাইয়ের মাধ্যমে প্রতারণার স্বীকার হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সালমা জাহান বলেন, আমার আপন বড় ভাই মামুনুর রশীদ মামুনের প্রতারণা নিঃশ্ব হয়ে এখন মাইজদী হাউজিংয়ের ভাড়া বাসায় অর্থ সংকটে মানবেতর জীবন যাপন করছি। এছাড়া নোয়াখালী সুপার মার্কেটে ধারদেনা করে “ওমেন্স প্রায়োরিটি এন্ড ইয়োগা সেন্টার” নামে মহিলাদের জিম চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছি। আপন ভাইয়ের প্রতারণা শিকার হয়ে আজ আমি নিঃস্ব। ফ্ল্যাট এবং জমি দেওয়ার কথা বলে তার এবং তার স্বামীর সারাজীবনের সঞ্চয় প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রায় নিঃশ্ব করে দিয়েছে তার আপন বড় ভাই মোঃ মামুনুর রশীদ মামুন এবং তার স্ত্রী দিনা।

তিনি বলেন, তার ভাই এবং ভাবি এলিফ্যান্ট রোডে বসবাস করেন। তার বউ মাদকাসক্ত। ইতিমধ্যে সে এলাকায় মাদক ব্যবসা করেন বলে তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার ভাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে মানুষকে চাকুরির আর কাজের সুযোগ দিবে বলে গ্রামের বহু মানুষকে নিঃশ্ব করেছেন বলে অভিযোগ করেন। কেউ টাকা ফেরত চাইলে মামলা হামলার হুমকি দিয়ে ভয়ে রাখেন।

তিমি আরো বলেন, ভাবী দিনা মাদকাসক্ত হওয়ায় কয়েকবার পুলিশ ধরেছে এবং গ্রামের মেয়েদের চাকুরির দেওয়ার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে এসে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করে। ইতিমধ্যে এক ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগে ঢাকার খিলক্ষেত থানায় জোর করে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করিয়েছে বলে মামলা হয়েছে।

তাদের বাসায় যাতায়াতের সুবাদে এ ব্যাপারে জানলে আমাদের পারিবারিক সুনামের কথা ভেবে প্রতিবাদ করি। তারা সংশোধন হওয়ার কথা বলে বার বার পার পেয়ে মাদক সেবন ও ব্যবসা থেকে বের না হলে আমার সাথে সম্পর্কে তিক্ততা শুরু হয়। তাদের মাদক ব্যবসা কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে দেখে আমার সাথে সম্পর্কের অবনতি সেখান আরো বেড়ে যায়।

এরমধ্যে আমি আমার ফ্ল্যাট আর জমি কবে দিবে জানতে চাইলে তারা কথা এড়িয়ে চলে সময় ক্ষেপন করলে আমি আমার টাকা ফেরত চাই। তারা তারিখ দিয়ে সময় ক্ষেপন করে। পরবর্তীতে আবার তার বাসায় টাকা ফেরত চাইতে গেলে টাকা দিবেনা বলে শাশিয়ে দেয় এবং তার বাসা থেকে বের না হলে হত্যার হুমকি দেয়। এমতাবস্থায় ভয়ে ঢাকা থেকে এসে নিরুপায় হয়ে সুধারাম মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করি এবং আদালতে মামলা দায়ের করি।

বিজ্ঞ আদালত মামলায় আদালত ” পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন” (পিবিআই) কে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া দায়িত্ব দেয়। কিন্তু আসামী বড় ভাই মামুনুর রশীদ মামুন মামলা তুলে নিতে সন্ত্রাসী দিয়ে অবিরাম হত্যার হুমকি দিয়েছে। এবং তদন্তাধিন রিপোর্ট টাকা দিয়ে কিভাবে নিজের পক্ষে নেওয়া যায় সে ভালো করে জানেন বলে হুমকি দেয়। টাকার জন্য রক্তের সম্পর্ক গুলো যদি এমন করে বেচে থাকাটাই চরম পযার্য়ের অমানবিকতা বলে সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তাই নিজের এবং নিজের পরিবারের নিরাপত্তায় প্রশাসনের আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এবং প্রশাসনের মাধ্যমে তার সারাজীবনের সঞ্চয়ের টাকা গুলো উদ্ধার হলে বেচে থাকার আশা পাবেন। তাই প্রশাসন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।